কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান: দুই হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন আটক

Date: 2026-10-12
news-banner


কুমিল্লায় কিশোর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের সাঁড়াশি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এসব বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

​পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। এরপর থেকেই মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। সর্বশেষ গত রবিবারের অভিযানে নতুন করে আরও ৩৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে, যার ফলে মোট আটকের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, আটককৃতদের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে আট শতাধিক কিশোরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

​অভিযান সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান জানান, উঠতি বয়সী কিশোররা যেন কোনোভাবেই গ্যাং কালচার বা অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে ভবিষ্যৎ নষ্ট না করতে পারে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অভিযานের সময় কোনো নিরপরাধ সাধারণ মানুষ বা শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং বজায় রাখা হয়েছে।

​এদিকে শহরজুড়ে পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকার অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে এ ধরনের ধারাবাহিক ও জোরালো অভিযান দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এই সামাজিক ব্যাধি চিরতরে নির্মূল করতে কেবল পুলিশি অভিযান নয়, পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

Leave Your Comments